সারাদেশ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের ছোট রাঘবপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিপক্ষের হামলায় দুইজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মামলার পর প্রতিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বাড়িতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ফলে পুরুষরা বাড়িছাড়া থাকায় নারী ও শিশুরা আতঙ্কে গৃহবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল প্রতিপক্ষের বাড়ির আঙিনায় থাকা কচু গাছের পাতা এক শিশুর লাঠি দিয়ে আঘাত করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এতে আবুল মুনসুর (৪২) ও বিউটি আক্তার (৪৫) গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় আহত মুনসুরের ছোট ভাই মো. মঞ্জুরুল হক (৩৯) বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫–৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি ফারুক মিয়া (২৮) ও রফিকুল ইসলাম (৪১)-সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এরই জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলার হুমকি দিচ্ছে এবং নারী-শিশুদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের স্কুল-মাদরাসায় যেতে বাধা দেওয়া, পথে উত্যক্ত ও হেনস্তার ঘটনাও ঘটছে।
আহত আবুল মুনসুরের স্ত্রী শেলিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার দুই মেয়ে তানজিলা (১৭) ও মিম (১৩) এবং ছোট ছেলে তামিম (৭) মাদরাসায় পড়াশোনা করে। কিন্তু এখন তারা নিরাপত্তার অভাবে যেতে পারছে না। রাস্তায় তাদের উত্যক্ত করা হয়। আমরা নিরাপত্তা ও বিচার চাই।
স্থানীয় শিক্ষার্থী মাসুমা আক্তার বলেন, বাড়ির বাইরে বের হলেই আমাদের অশালীন কথাবার্তা বলা হয়, ভয় দেখানো হয়। এতে আমাদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মামলার বাদী মঞ্জুরুল হক অভিযোগ করে বলেন,
আমরা আইনের আশ্রয় নেওয়ায় প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছে এবং আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা বাড়িতে যেতে পারছি না। আমাদের পরিবারের নারী-শিশুরাও নিরাপদ নয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের ফয়জুল হক (৫৩) বলেন, তাদের বাড়িতে আসতে কেউ বাধা দেয়নি। আমরা কোনো হুমকিও দিইনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন,মারামারির ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ