সারাদেশ

ভালুকায় গণহত্যার শিকার দীপু দাসের বাড়িতে ডিসি, নগদ সহায়তা প্রদান

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ | ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
news image

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাতে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের (২৮) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান। তিনি নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে নগদ অর্থসহ সরকারি সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের দীপু দাসের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ২৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ, শীতবস্ত্র, শুকনো খাবার এবং একটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিহত দীপুর স্ত্রীকে ভবিষ্যতে সরকারি সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনমূলক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে আমরা তাদের বাড়িতে এসেছি। রাষ্ট্র হিসেবে এই পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান আমাদের দায়িত্ব। এই পরিবার একা নয়—প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”

এ সময় তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত দীপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “আমার ছেলে ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ থাকলে দেশে আইন আছে—সেই আইনে বিচার হতো। আমরা গরিব বলেই ছেলের জীবন রক্ষা করতে পারিনি। আমি আমার ছেলের হত্যার ন্যায়বিচার চাই।”


নিহতের স্ত্রী মেগনা রানী বলেন, “আমার একমাত্র সন্তান আজ বাবা হারা। অভাবের সংসারে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। রাষ্ট্রের কাছে একটাই দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক।”

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। পরে তার মরদেহ বিবস্ত্র করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু দাস ১৯ ডিসেম্বর ভালুকা থানায় অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালত তাদের প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

নিহত দীপু চন্দ্র দাস তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও দ্রুত সহায়তা প্রদান প্রশাসনের মানবিক ভূমিকার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি রাষ্ট্রের সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছেন।


সর্বশেষ