সারাদেশ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীনভাবে একটি চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেত্রকোনা জেলার সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা নাঈমের নির্দেশে সোমবার কেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুল ইসলাম।
পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সুন্দর পরিপাটি ভবনে কার্যক্রম চললেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোনো চুক্তিপত্র নেই। এমনকি প্রতিষ্ঠানে কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা এমবিবিএস ডাক্তারও কর্মরত নেই।
তথ্য অনুযায়ী, শুধু পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সের ওপর ভিত্তি করে প্রায় ২০ বছর ধরে মোহনগঞ্জের প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে। কেন্দ্রটি ময়মনসিংহের ডা. কে. জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অধীনে পরিচালিত বলে জানা গেছে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন। টিমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুল ইসলাম ছাড়াও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অলক কান্তি তালুকদার, মেডিক্যাল অফিসার (প্যাথলজি) ডা. জান্নাতুন নেছা, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. পার্থ প্রতীম সেন, মেডিক্যাল অফিসার (সার্জারি) ডা. রাকিবুল ইসলাম, মেডিক্যাল অফিসার (পেডিয়াট্রিক) ডা. মেহেদী হাসান পিয়াস, পরিসংখ্যানবিদ মুশফিকুর রহমান বকুল ও অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কেন্দ্রটির ইনচার্জ আবু সাঈদ মো. তামীম ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অন্য কোনো অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। জানা যায়, এইচএসসি পাস ওই ইনচার্জ নিজেই রোগীদের চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছেন।
চোখের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের চিকিৎসায় এমন অব্যবস্থাপনা দেখে পরিদর্শন টিমের সদস্যরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুল ইসলাম এক মাসের মধ্যে সরকারি সব নিয়ম-কানুন পূরণ করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নির্দেশ দেন। অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সর্বশেষ