ময়মনসিংহ

তল্লাশির নামে নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগে এসআইয়ের বিরুদ্ধে, তদন্তের দাবি

রাকিবুল ইসলাম, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
news image

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মারামারির মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে ঘর তল্লাশির সময় নগদ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামে ঘটেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত আসামিকে বাড়িতে না পেয়ে এসআই আব্দুর রাজ্জাক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে ঘর তল্লাশির সময় নগদ টাকা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কমলা খাতুন জানান, চলতি মাসের ১ জুন বিকেল ৩টার দিকে তার স্বামী বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে এসআই আব্দুর রাজ্জাকসহ চারজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে অভিযান চালান। সে সময় বাচ্চু মিয়া বাড়িতে না থাকায় পুলিশ সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসআই রাজ্জাক তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার ছোট ছেলেকেও রেহাই দেননি।

কমলা খাতুনের দাবি, প্রথমে এসআই আব্দুর রাজ্জাক একাই ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। পরে অন্য পুলিশ সদস্যদেরও ঘরে ডেকে এনে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করা হয়। এ সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও খোঁজাখুঁজি করা হয়।

তিনি বলেন, “ঈদের আগে দুটি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া ৩৪ হাজার টাকা ঘরে রেখেছিলাম। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫০০ টাকা কিস্তি পরিশোধের জন্য আলাদা রাখা ছিল। বাকি ২৫ হাজার ৫০০ টাকা কাপড়ের ভাঁজে রাখা ছিল। পুলিশ চলে যাওয়ার পর টাকা খুঁজতে গিয়ে দেখি ওই ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নেই। ঘরে প্রথমে এসআই রাজ্জাক এবং পরে আরও তিনজন পুলিশ সদস্য প্রবেশ করেছিলেন। তাদের বাইরে অন্য কেউ ঘরে ঢোকেনি। আমার টাকা কোথায় গেল, তার জবাব চাই। একই সঙ্গে আমাকে ও আমার সন্তানকে গালিগালাজ করারও বিচার চাই।”

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “স্থানীয়ভাবে প্রতিকার না পেলে পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করব।”

স্থানীয় বাসিন্দা লাল চান, সোহেল ও শেখান্দর বলেন, “একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত, যাতে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে বলেন, “ঘটনার দিন মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। আসামিকে না পেয়ে নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি চালিয়ে চলে আসি। আমার বিরুদ্ধে আনা টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, “বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ