নারী ও শিশু
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের খান বাহাদুর বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মো. শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, তবে অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কী ঘটেছিল সেদিন, তখন সময় (২২ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটা, মাদ্রাসা ছুটির পর প্রাইভেট পড়ানোর সময় শিশুটিকে পাশের একটি কক্ষে ডেকে নেন অভিযুক্ত শিক্ষক। সেখানে তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। শিশুটির চিৎকারে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ছুটে এলে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে শিশুটি ঘটনাটি তার বাবা-মাকে জানায়।
ভুক্তভোগীর বাবা আজিজুল হক অভিযোগ করেন, “আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আমাদের চাপ দিতে শুরু করে। তারা বলে, এসব বিষয় প্রকাশ পেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে সালিশের আয়োজন করে অভিযুক্তকে দিয়ে ক্ষমা চাওয়ানো হয়, তবে তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পরিবারের এক সদস্য প্রতিবাদ করলে তাকে সালিশ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সালিশ ঘিরে এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশ সালিশে জড়িত কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে বলে জানা যায়। পরে তাদের সমর্থকেরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সালিশ-পরবর্তী সময় ভুক্তভোগীর পরিবারের এক সদস্যের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা-জানালা ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং পরিবারের কয়েকজনকে মারধর করে বলে অভিযোগ।
পরিবার ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মো. শহীদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে গেছেন।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনন্দ পত্রিকাকে জানান, আমি মাত্র শুনলাম তবে “লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে একটি গুরুতর অভিযোগের ঘটনায় কেন এখনো মামলা হয়তে দেইনি এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রভাবশালীদের ভূমিকা, সালিশের বৈধতা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি গভীর তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সর্বশেষ