শিক্ষা
ময়মনসিংহের নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলমান শার্টডাউন কর্মসূচির কারণে নিয়মিত পাঠদান ও বার্ষিক পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা; বিপাকে অভিভাবকরাও। এমন পরিস্থিতিতে দুই উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী ও অভিভাবকরা উদ্যোগ নিয়ে পরীক্ষার আয়োজন করেছেন বহু বিদ্যালয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার মোট ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বুধবার ৭৫টি বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবী ও অভিভাবকদের মাধ্যমে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জের ১৪০টির মধ্যে ১৩১টি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জের বড়জোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকরা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে আহ্বান জানান। নান্দাইলের চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের কূলধুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুই উপজেলায় মোট ৩১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০৬টিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে; ১১২টি বিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষা হয়নি।
এদিকে পরীক্ষা না নেওয়া নিয়ে নান্দাইলের মুশুল্লি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
মোয়াজ্জেম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে, তাই পরীক্ষা নেয়নি। দুই দিন ধরে খাতা-কলম নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।”
নান্দাইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমদ বলেন, “উপজেলার ১৪০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩১টিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়নি, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যথারীতি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।”
সর্বশেষ