সারাদেশ
মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ও একমাত্র ঠিকানা কবরস্থান। অথচ সেই পবিত্র আশ্রয়স্থল দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকলে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবহেলার প্রতিচ্ছবিও বটে। এমন বাস্তবতায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের শতবর্ষী একমাত্র সরকারি কবরস্থান রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে, প্রায় একশ’ বছরের পুরোনো এই সরকারি কবরস্থানের আয়তন প্রায় ৪০ শতক। ইতোমধ্যে এখানে চার শতাধিক মানুষকে দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাউন্ডারি প্রাচীর না থাকায় এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভাবে কবরস্থানটি চরম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
এই অবস্থার প্রতিবাদ ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় আঠারবাড়ি গ্রাম, মেইন রোডসংলগ্ন সরকারি কবরস্থানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি, তরুণ সমাজকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আঠারবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য আবুল হাশেম, ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সাইদুর রহমান, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ইফতেখার জাহান রুমান, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খান মিল্কান, আঠারবাড়ি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, সমাজ কল্যাণ তরুণ সংঘ ও ‘স্বপ্নের আঠারবাড়ি’ সংগঠনের সভাপতি এবং আঠারবাড়ি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফ হাসান, সংগঠনের সিনিয়র সভাপতি ইমরান তুষারসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, বাউন্ডারি প্রাচীর না থাকায় কবরস্থানে অবাধ যাতায়াত, ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ঘটছে, যা মৃতদের প্রতি সম্মান এবং কবরস্থানের পবিত্রতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
তারা আরও বলেন, শতবর্ষী এই সরকারি কবরস্থান রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের একক দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও মানবিক কর্তব্য। দ্রুত বাউন্ডারি নির্মাণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং একটি স্থায়ী ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন বক্তারা।
আলোচনা সভার আয়োজন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এতে সহযোগিতা করেন সমাজ কল্যাণ তরুণ সংঘ ও ‘স্বপ্নের আঠারবাড়ি’। সভা শেষে উপস্থিত সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কবরস্থান সংরক্ষণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই মানবিক উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং আঠারবাড়ির শতবর্ষী একমাত্র সরকারি কবরস্থান তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সুরক্ষা ফিরে পাবে।
সর্বশেষ