ময়মনসিংহ

শাটার বন্ধ দোকানে রক্তাক্ত লাশ: ময়মনসিংহে কী ঘটেছিল সেই রাতে

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
news image

ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায় নিজ দোকানের ভেতর চাল ব্যবসায়ী সুসেন চন্দ্র সরকার (৬২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। হত্যার পর দোকানের শাটার বাইরে থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে এটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বগার বাজার চৌরাস্তায় অবস্থিত ‘মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ নামের চালের আড়তে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুসেন চন্দ্র সরকারকে দোকানের ভেতর মাথায় একাধিক কোপ দেওয়া হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ধরন দেখে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, হামলাকারীরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। হত্যার পর দোকানের শাটার বাইরে থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়, যা স্বাভাবিক ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা মেঝে, ভাঙা ক্যাশ ড্রয়ার এবং ছড়িয়ে থাকা কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। তবে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা দোকানের ভেতরে না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

লুটের দাবি, তবে অস্বাভাবিক প্রশ্নের উত্তরে নিহতের ছেলে সুজন সরকার দাবি করেন, দোকান থেকে কয়েক লাখ টাকা লুট হয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, প্রতিদিন এত নগদ টাকা রাতে দোকানে রাখা হতো কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।

এক স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাত ১১টার পর দোকান খোলা থাকা আর ভেতর থেকে শাটার বন্ধ করার বিষয়টা সন্দেহজনক। এখানে শুধু ডাকাতি নয়, অন্য কোনো উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

শত্রুতা না থাকলেও তদন্তে পুরোনো লেনদেন

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সুসেন চন্দ্র সরকারের সঙ্গে কারও প্রকাশ্য শত্রুতা ছিল না। 

তবে পুলিশ বলছে, ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা বাজার ভিত্তিক বিরোধ সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা সাম্প্রতিক বড় অঙ্কের লেনদেন, পাওনাদারদের তালিকা এবং শেষ যাদের সঙ্গে নিহতের কথা হয়েছিল, সেসব বিষয় যাচাই করছি।

এই ঘটনার পর বগার বাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাত গভীর হলেও বাজার এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল ছিল কি না সে বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, এভাবে দোকানের ভেতর মানুষ খুন হয়ে যাবে, আর কেউ টের পাবে না এটা খুবই উদ্বেগজনক এবং বর্তমানে আমরা আতঙ্কে মধ্যে রয়েছি একরকম। 

ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের দিন পার হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশ নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দ্রুত তদন্ত অগ্রগতি ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তাদের।


সর্বশেষ