সারাদেশ
দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা ও অনীহার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এতে প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে এক প্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, একই ঘটনার প্রেক্ষাপটে চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব মো. আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসক হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পরপরই ইউপি সচিবকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইউপি সচিব মোঃ আনিসুর রহমান নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সম্মানহানি করার জন্য এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই এবং এর পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রতিহিংসা কাজ করছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পলাশ বলছেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে যখন দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়, তখন তা আমলে নিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং সৎ ও নিরপেক্ষ সংবাদকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।
সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের নিরবতা এবং পাল্টা অপপ্রচারের ঘটনা দুটিই একটি উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। এতে করে সত্য উদঘাটনের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী লড়াইও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যদি উপেক্ষিতই থাকে, তবে তা শুধু সংবাদপত্রের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে—বাস্তবে পরিবর্তন আসবে না। তাই এখনই প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ।
সর্বশেষ