সারাদেশ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী নিপা আক্তার (২০) নামে এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) কলেজে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিকেল তিনটার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার মোহনগঞ্জ-নেত্রকোনা সড়কে পানুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিপা আক্তার ও তার মা গুরুতর আহত হন। প্রথমেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢাকা মেডিকয়ালে যাওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিপা আক্তার জেলার পূর্বধলা উপজেলার দেউটুকুন চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা মো. তারা মিয়ার মেয়ে। তিনি মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মোহনগঞ্জ সরকরি কলেজে একটি পরীক্ষা ছিল নিপার। সকালে মা ফরিদা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে আসেন তিনি। বিকেলে পরীক্ষা শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার পানুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী এক ট্রাক তাদের অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ধান খেতে ছিটকে পড়ে। ফলে ভেতরে থাকা নিপা ও তার মা ফরিদা আক্তারের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় আশপাশের লোকজন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের মমেক হাসাপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢামেক হাসাপাতালে পাঠান চিকিৎসক। তবে ঢাকা নেওয়ার পথে নিপার মৃত্যু হয়। আর ফরিদা আক্তারকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, ঘটনার পর অটোরিকশা ও ট্রাক ফেলে চালকরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। নিপার বড় ভাই রুহুল আমিন বলেন, “ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা নেওয়ার পথেই নিপার মৃত্যু হয়। মায়ের অবস্থাও বেশ আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, দুর্ঘটনার পর গাড়ি দুটি উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সর্বশেষ