ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ সদরের সিরতা ইউনিয়নের ৯নং চর আনন্দীপুর ওয়ার্ডে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ সীসা গলানোর কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এই অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রা।
অভিযানে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে কারখানার মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী তরিকুল ইসলাম কোতোয়ালি থানার এএসআই ফারুক হোসেন, ভূমি অফিসের বিল্লাল হোসেনসহ অন্যান্য স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চর আনন্দীপুর গ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত এই কারখানায় পুরাতন ব্যাটারির সীসার প্লেট গলানো হচ্ছিল। এর ফলে নির্গত হচ্ছিল ভয়াবহ বিষাক্ত এসিডের ধোঁয়া ও সীসার অণু, যা প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি করেছে।
গ্রামবাসীদের ভাষ্যমতে, এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে এলাকায় গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ পশু-পাখির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটছে। একই সঙ্গে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, চোখে জ্বালা, মাথা ব্যথা ও ত্বকের বিভিন্ন রোগ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একাধিক বাসিন্দা জানান, রাতে ধোঁয়া আরও বেশি ছড়ায়। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও রক্ষা পাওয়া যায় না। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, গবাদিপশু মারা যাচ্ছে—কিন্তু এতদিন কেউ ব্যবস্থা নেয়নি।”
পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা নেই, অনুসন্ধানে জানা যায়, কারখানাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল। সীসা গলানোর মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো চিহ্ন সেখানে পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীসা একটি অত্যন্ত বিষাক্ত ভারী ধাতু। দীর্ঘদিন এর সংস্পর্শে থাকলে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বুদ্ধিবিকাশেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রা জানান,“জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে সীসা গলানোর কারখানা পরিচালনার প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুনরায় এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হলে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরিমানায় সীমাবদ্ধ না রেখে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাটি ও বাতাসের দূষণ পরীক্ষা, এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
চর আনন্দীপুরের মতো গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের অবৈধ শিল্প কার্যক্রম কেবল পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনকেও হুমকির মুখে ফেলছে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
সর্বশেষ