সারাদেশ
ময়মনসিংহ-১০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (জব্দ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের নামে থাকা মোট ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। দুদকের আবেদনে বলা হয়, আসামি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ২০ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার ৫৭৩ টাকা মূল্যের সম্পত্তি অর্জন করে দখলে রাখেন। পাশাপাশি তার নামে থাকা ১৬টি ব্যাংক হিসাবে ৬০ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার ৯৮ টাকা এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৬ মার্কিন ডলার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থ অপরাধলব্ধ অবৈধ অর্থ জেনে-বুঝে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ সংক্রান্ত অভিযোগে দুদক ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করেছে এবং মামলাটি তদন্তের জন্য একজন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আসামি তার নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে এবং সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর ঠেকাতে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ১৮ বিধি এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারার আওতায় তার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা একান্ত প্রয়োজন বলে আদালতে আবেদন জানায় দুদক। আদালত দুদকের যুক্তি গ্রহণ করে উক্ত সম্পত্তি জব্দের আদেশ প্রদান করেন।
দুদক সূত্র জানায়, তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
সর্বশেষ