ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভয়াবহ সংঘর্ষে তিন নারী যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বেলা প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কুমারগাতা সমিতিঘর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয় এটি আবারও তুলে ধরেছে মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, তদারকির ঘাটতি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, মুক্তাগাছা থেকে ছেড়ে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাক এবং বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশা উভয়ই দ্রুতগতিতে চলছিল। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিন নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়। ট্রাকটিও সড়কে উল্টে পড়ে।
আহতদের অবস্থা ও উদ্ধার কার্যক্রম
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। ট্রাকচালক, তাঁর সহকারী এবং অটোরিকশাচালককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোশাররফ হোসেন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই নিহত তিন নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, যা স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি সাড়া ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সড়কে নিয়মিত যাত্রী চলাচল থাকা সত্ত্বেও দ্রুত পরিচয় শনাক্তে ব্যর্থতা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উঠে এলো ভয়াবহ চিত্র
স্থানীয় বাসিন্দা ফাহিম হোসেন বলেন, “দুটো যানবাহনই দ্রুতগতিতে ছিল। সংঘর্ষের পরপরই তিনজন নারী প্রাণ হারান।” অন্য প্রত্যক্ষদর্শী ওমর ফারুক জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের সড়ক থেকে সরিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় গৃহবধূ হাসিনা বেগম বলেন, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দেখি অটোরিকশা দুমড়ে গেছে। এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই হয়। এখানে স্পিডব্রেকার বা কোনো সতর্কতামূলক চিহ্ন থাকলে হয়তো প্রাণগুলো বাঁচানো যেত।
আরেক পথচারী সাইফুল মিয়া জানান, এই এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি খুবই কম। গাড়িগুলো কোনো নিয়ম মানে না। আমরা সাধারণ মানুষ সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকি। একজন দোকানদার, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, এই জায়গাটা ‘অ্যাক্সিডেন্ট জোন’ হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছে। তারপরও কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। আজ তিনজন মারা গেল আগামীকাল আবারও এমন কিছু ঘটতে পারে।”
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: ব্যস্ত এই মহাসড়কে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ বা সিগন্যালিং ব্যবস্থা ছিল না, সড়কে বিভাজক বা স্পিড কন্ট্রোল ব্যবস্থা না থাকায় কি ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তারা দ্রুত গতিনিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত চেকপোস্ট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় সড়কে শুধু চালকের অসতর্কতা নয়, বরং একটি দুর্বল ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত ব্যর্থতাই প্রাণহানির বড় কারণ। যথাযথ তদন্ত ও দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ