ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ নগরীর গাঙ্গিনারপাড় শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টার পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চ–এর কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মো. আয়াস চারজন শ্রমিকসহ কার্যালয়ে যান। শ্রমিকরা প্রথমে কলাপসিবল গেটের পাশের একটি জানালা ভাঙেন, পরে আরেকটি জানালার অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত করেন।
এ সময় ভেতরে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান–এর ছবি ও দলীয় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। কার্যালয়ের সামনে একটি টায়ারে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ এসে আগুন নেভায় এবং ভাঙচুর বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে দেয়।
‘টয়লেট’ ঘোষণা—আইনি ভিত্তি কী?
ঘটনাস্থলেই আল নূর মো. আয়াস কার্যালয়টিকে ‘অফিশিয়ালি পাবলিক টয়লেট’ হিসেবে ঘোষণা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে স্থানীয় সরকার আইন ও ফৌজদারি আইনের আলোকে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন একতরফাভাবে বেসরকারি/দলীয় সম্পত্তির ব্যবহার পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে পারেন কি না—এ প্রশ্ন উঠেছে।
আইনজীবীদের মতে, মালিকানা বা বৈধ কর্তৃত্ব ছাড়া এমন ঘোষণা বেআইনি দখল বা ভাঙচুরের পর্যায়ে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক মতামত জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রেক্ষাপট: তালাবদ্ধ কার্যালয় ও পুনরায় সক্রিয়তার গুঞ্জন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কার্যালয় খোলার গুঞ্জন ছড়ায়। ২১ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আজাদ জাহান শামীমের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ওই সক্রিয়তাই প্রতিপক্ষের ক্ষোভের কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ, নাকি তাৎক্ষণিক উসকানির ফল—তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি সংগ্রহ করছে পুলিশ।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগে আল নূর মো. আয়াস অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই রেদোয়ান হোসেন সাগরকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় এবং “ফ্যাসিবাদের কোনো জায়গা হবে না” এই বার্তা দিতেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা এটিকে ‘আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ’ ও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে দেখছেন।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা—এখন সেটিই নজরে স্থানীয়দের। রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আইন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ