সারাদেশ

মোহনগঞ্জের খাদ্য কর্মকর্তাকে শোকজ, ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তোলপাড়

সুমন মাহমুদ শেখ | মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি ১১ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
news image

নেত্রকোনার মদন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়ার বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করায় মোহনগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন খালিদকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, সম্প্রতি মদন উপজেলায় আলোচিত ২০ টন চাল জব্দ এবং তদন্তে সরকারি গুদামে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ টন চাল পাওয়ার ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়াকে বরগুনার পাথরঘাটায় বদলি করা হয়। একই ঘটনায় গুদামের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলমকেও অন্যত্র বদলি করা হয়।

বদলির পর মোহনগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হুমায়ুন খালিদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে দুলাল মিয়ার পক্ষে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন অনিয়মের ইঙ্গিত করে লেখেন, “এরকম অপরাধ কে না করে? আমিও করছি। তাহলে আমাদের সবাইকে বদলি করেন।” এছাড়া বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সমালোচনার মুখে পোস্টটি মুছে ফেলেন হুমায়ুন খালিদ।

এ বিষয়ে মো. হুমায়ুন খালিদ বলেন, “জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান স্বাক্ষরিত শোকজের জবাব আমি দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আর কী ফলোআপ হবে জানি না। দেশে এত ঘটনা থাকতে আমার একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে কেন, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, “তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছিল। তিনি জবাব দিয়েছেন। সেই জবাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত তারা নেবেন।”

উল্লেখ্য, হুমায়ুন খালিদের ফেসবুক পোস্টে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। একই সঙ্গে মদনের সাবেক খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়ার বদলিকে ‘অন্যায্য’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। পোস্টের ভাষা ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত। 

সর্বশেষ