অপরাধ

মোহনগঞ্জে পতিতা ও মাদকসেবিদের আড্ডা

সুমন মাহমুদ শেখ, মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৮ অপরাহ্ন
news image

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠেছে একাধিক পতিতালয়। এসব পতিতালয়ে অসামাজিক যৌনাচারের পাশাপাশি নির্বিঘ্নে চলে মাদকসেবিদের মাদক সেবন ও বখাটেদের আড্ডা। পতিতা, হিজড়া, মাদকসেবি ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ শহরবাসী। 

প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গায়। পুলিশ ওইসব জায়গায় একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জড়িতদেরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালেও দুর্বল আইনের ফাঁক ফোকরে দুয়েকদিন পরই বেরিয়ে আসে ওরা। জেল ফেরতের পর এসব পূনরায় তারা একই পেশায় লিপ্ত হয়।

অবশেষে এসব অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সুপাররের দ্বারস্থ হয়েছেন শহরের সচেতন বাসিন্দারা।

গত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) পৌর শহরের ৮০ জন বাসিন্দার স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র নেত্রকোনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। এর অনুলিপি জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরেও পাঠিয়েছেন তারা।

অভিযোগপত্রে পৌর শহরের বাসিন্দারা এলাকায় শান্তিপূর্ণ বসবাস অব্যাহত রাখার স্বার্থে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পৌরশহরের আল-মবিন রোডের একটি বাসায় সাফিয়া আক্তার নামে এক নারী প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে বসবাস করছেন। অভিযোগ পত্রে সাক্ষরিত বাসিন্দাদের দাবি মতে, সেখানে রাত-দিন অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। পাশাপাশি রাতভর চলে মাদকসেবীদের আড্ডা। বখাটে ও মাদকসেবীদের উৎপাতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। 

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাড়িটিতে নিয়মিত অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসেবীদের আড্ডা বসে, যা দীর্ঘদিন ধরে তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া থানার পূর্বপাশে আমেনা নামের আরেক নারী একইভাবে দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অস্বস্তিতে ভোগছেন এবং পুরো এলাকার পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারা এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

উল্লেখ্য, শহরের শিয়ালজানি খালপাড়, পাটপট্টি ও তুলাপট্টির সংযোগস্থল, স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ভাসমান পতিতা, হিজড়া ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। উল্লেখিত স্থানগুলো দিয়ে পথচারীরা যাতায়াত করতে ভয় ও আতঙ্কে বিব্রতবোধ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এসব জায়গায় বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।  

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করেন, এসব অভিযোগে ওই নারীদের অতীতে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরে জামিনে মুক্ত হয়ে একই কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।

মোহনগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুজ্জামান বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলব। যৌথভাবে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ