সারাদেশ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ঝিমটি বাজারে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় এক যুবককে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (গতকাল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঝিমটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম মো. মাসুদ রানা (২৫)। তিনি উপজেলার ২ নম্বর বড়তলী বানিয়াহারী ইউনিয়নের দলবল গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. কালাচাঁন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝিমটি বাজারে শরীফ মিয়ার একটি রেস্টুরেন্টে দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় প্রকাশ্যে নেশাদ্রব্য সেবন করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ঝিমটি বাজার কমিটির সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. দুলাল মিয়া বাজারে মাদক সেবনে বাধা দেন। এ সময় মাসুদ রানা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত শরীফ মিয়া ও তার সহযোগীরা। পরে রাত ১০টার দিকে বাজারে একা পেয়ে মাসুদ রানাকে শরীফ মিয়া (৩০), মো. আব্দুল মিয়া (৪০), মো. আশরাফুল ইসলাম (৩৫) ও শরীফের দোকানের কর্মচারী মো. আতির মিয়াসহ কয়েকজন লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে বাম কানের নিচে ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
মাসুদ রানার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার সকালে আহত মাসুদ রানা বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মাসুদ রানা বলেন, ওরা আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। পরে ছুরি দিয়ে কানের নিচে আঘাত করে। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলা কি অপরাধ? আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
ঝিমটি বাজার কমিটির সভাপতি মো. দুলাল মিয়া বলেন, শরীফ নিয়মিত বাজারে মাদক সেবন করত। আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম। সেই ক্ষোভ থেকেই মাসুদ রানার ওপর হামলা হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে কেউ মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাবে না।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও সংযোগ মেলেনি।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সর্বশেষ