শিক্ষা
বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও আস্থা। কিন্তু সেই ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে অনুমোদনহীন ও অনিয়ন্ত্রিত কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে অভিযোগ উঠছে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের সহিলদেও খান বাহাদুর বাজার এলাকায় অবস্থিত “জামিয়া হুসাইনিয়া ও হযরত সাওদা (রা.) মহিলা কওমি মাদ্রাসা” ঘিরেও উঠেছে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ডে “মহিলা মাদ্রাসা” লেখা থাকলেও সেখানে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এছাড়া মহিলা মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে কোনো নারী শিক্ষক পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো কার্যকর পরিচালনা কমিটিও নেই।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মাদ্রাসার মোহতামিম সোহেল আহমেদ সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যস্ততার কথা বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শফিউল আলম ও হাফেজ হাবিবুল্লাহর কাছে পরিচালনা কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, “আমরা এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব না।” এ সময় শিক্ষক মাওলানা শফিউল আলম প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণ নামও স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদ্রাসার নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। পরিচালনা কমিটি না থাকায় আর্থিক বিষয়েও নেই কোনো জবাবদিহিতা।
এদিকে স্থানীয়ভাবে আলোচিত একটি ঘটনায় জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষক মাওলানা শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে এক শিশুশিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে এলাকা ছাড়তে সহযোগিতা করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং আইনগত কোনো অগ্রগতির তথ্যও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ সরকারি তদারকি ও নীতিমালার আওতায় আনা জরুরি। তাদের মতে, নিবন্ধন, পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ আরও নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক হবে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ