সারাদেশ
ময়মনসিংহের ফুলপুরে এক পাম্প মালিকের বাসার মাটির নিচে গড়ে তোলা হয়েছিল একেবারে গোপন ‘তেলের ভান্ডার’। বাইরে থেকে সাধারণ বাড়ি—কিন্তু ভেতরে লুকানো ট্যাংকে জমা রাখা হচ্ছিল হাজার হাজার লিটার জ্বালানি। অবশেষে প্রশাসনের অভিযানে ফাঁস হলো সেই গোপন মজুতের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে উপজেলার পয়ারী রোডের আমুয়াকান্দা এলাকায় মেসার্স পপি ট্রেডার্স নামের একটি মিনি পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বেরিয়ে আসে এই অবৈধ মজুতের চিত্র। উদ্ধার করা হয় মোট ২৪ হাজার লিটার জ্বালানি—যার মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও ১৯ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাম্প মালিক নিজের বাসার ভেতরে মাটির নিচে বিশেষভাবে তৈরি দুটি ট্যাংকে এসব জ্বালানি মজুত করে রেখেছিলেন। ট্যাংকগুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল, বাইরে থেকে কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই।
শুধু তাই নয়, দুটি গাড়িকেও ব্যবহার করা হচ্ছিল ভ্রাম্যমাণ গুদাম হিসেবে যেখানে অতিরিক্ত তেল সংরক্ষণ করা হতো, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সরানো যায়।
প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে ধীরে ধীরে এসব জ্বালানি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটাই বাজারে সংকট তৈরি হলে বা দাম বাড়লে অধিক মুনাফায় বিক্রি করা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য করে আসছে। এই ঘটনাও সেই চক্রের অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলাম সীমার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম ও ফুলপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযুক্ত পাম্প মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর আওতায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত জ্বালানি জনস্বার্থে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ এর সুবিধা পায়।
একই চিত্র অন্যত্রও এর আগের রাতেই হালুয়াঘাটে পৃথক অভিযানে আরও ২৩০ লিটার জ্বালানি জব্দ করা হয়। প্রশাসনের ধারণা, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং বৃহত্তর কোনো মজুত সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন,জ্বালানি নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বরদাশত করা হবে না। কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুলপুরের এই ঘটনা শুধু একটি অবৈধ মজুতের গল্প নয় এটি বাজার নিয়ন্ত্রণে লুকিয়ে থাকা অসাধু চক্রের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই অভিযানের পর পুরো জেলায় এমন গোপন ভান্ডারের আরও খোঁজ মেলে কিনা।
সর্বশেষ