ময়মনসিংহ

খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলে জুলাই আন্দোলনের আসামি : নেজামুল হক

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ | ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
news image

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দোয়া মাহফিলের মঞ্চে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলাতক সংসদ সদস্য নিলুফার আঞ্জুম পপির ঘনিষ্ঠভাজন এবং মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলার আসামি মো. নেজামুল হক সরকার (৫০)। তবে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যেই সম্প্রতি আলোচিত জুলাই মাসের আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার এক আসামিকে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাধারণ কর্মীদের উপস্থিতিতে দোয়া মাহফিলটি একটি শান্ত পরিবেশে শুরু হয়। মঞ্চে ব্যানার–ফেস্টুনে দলের চেয়ারপারসনের রোগমুক্তি কামনার বার্তা প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানের ছবি বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা যায়—সামনের সারিতে দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়া মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলার আসামি মো. নেজামুল হক সরকার জুলাই আন্দোলনের মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ১ ডিসেম্বর গৌরীপুর উপজেলার ৯ নম্বর ভাংনামারী ইউনিয়নের অনন্তগঞ্জ (বয়ড়া) বাজারে ময়মনসিংহ–৩ (গৌরীপুর) আসনের মনোনয়নপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেনের সমর্থকদের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিনা’র একটি অনুষ্ঠানও ছিল, যেখানে কৃষিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৩ আসনের পলাতক সংসদ সদস্য নিলুফার আঞ্জুম পপির ঘনিষ্ঠ এবং মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলার ৩৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নেজামুল হক সরকার। 

এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ মো. আজিজুল হক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দলের ভেতর কি এমন আসামিদের উপস্থিতি আগে থেকে জানা ছিল? নাকি তারা নিজেরাই উপস্থিত হয়েছেন?

• আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি কিভাবে দেখছে?

যদিও দলীয় কোনো নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি, তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজন জানিয়েছেন যে আন্দোলন–সংক্রান্ত মামলাগুলোকে তারা “রাজনৈতিক হয়রানি” হিসেবে দেখেন। ফলে অনেকেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দ্বিধা করেন না।

• ফুলেল শুভেচ্ছা ও রাজনৈতিক বার্তা।

দোয়া মাহফিল শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এতে নারী নেত্রীসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার বার্তাও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ বলছেন, রাজনৈতিক মামলায় অভিযুক্ত হওয়া মানেই অপরাধী নয়; আবার কেউ বলছেন, আইনের চোখে যিনি মামলার আসামি, তাঁর প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মঞ্চে ওঠা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক।

জুলাই আন্দোলনের মামলার এক আসামির দোয়া মাহফিলে উপস্থিতি—এটি নিঃসন্দেহে ময়মনসিংহের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে দলীয় সিদ্ধান্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এ আলোচনার গতিপথ নির্ধারণ করবে।


সর্বশেষ