কৃষি ও প্রকৃতি
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেত্রকোনায় কৃষকদের নিয়ে কৃষি-প্রতিবেশবিদ্যাভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফরে অংশগ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণিরা পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প ব্যয়ী কৃষি প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিকের আয়োজনে আটপাড়া ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার রামেশ্বরপুর, পাহাড়পুর, মঙ্গলসিদ্ধ কান্দাপাড়া, হাসামপুর, আটকাপাড়া, মৌজেবালী ও কাইলাটি গ্রামের কৃষি-প্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রের সাতজন তত্ত্বাবধায়ক কলমাকান্দা উপজেলার নয়াপাড়া ও খাড়নৈ শিখন কেন্দ্রে এ সফরে অংশ নেন।
সফরকালে অংশগ্রহণকারীরা বেড পদ্ধতি, বস্তা ও চাঙ্গ বেডে সবজি চাষ, সীমিত পানি ব্যবহারে উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল, স্যালাইন পদ্ধতিতে পানি সংকট নিরসন, মাটির কলসে নোজল সংযুক্ত করে সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থা, রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদন এবং স্থানীয়ভাবে বীজ সংরক্ষণের লোকায়ত পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
এছাড়া স্বল্প জমিতে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার, বহুমুখী ফসল চাষ এবং পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে বাড়িভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশলও পর্যবেক্ষণ করেন তারা। অংশগ্রহণকারী কৃষকরা এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কৃষি-প্রতিবেশবিদ্যার চর্চা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। স্থানীয় সম্পদ ও দেশীয় জ্ঞানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তারা আরও বলেন, কৃষি-প্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রগুলো কৃষকদের জন্য বাস্তবমুখী শিক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় তা প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা টেকসই কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণে সহায়ক হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কলমাকান্দা ও নেত্রকোনা অঞ্চলের বারসিকের আটজন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব পরিচালনা করেন বারসিক কর্মকর্তা গুঞ্জন রেমা, আলপনা নাফাক ও আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বারসিকের পার্বতী রানী সিংহ।
সফরের শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় কৃষি-প্রতিবেশবিদ্যার চর্চা আরও বিস্তৃত করা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সর্বশেষ