সারাদেশ
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের ইতিহাসস্পর্শী স্থান রোয়াইলবাড়ী দুর্গ আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বেতাই নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন দুর্গ বাংলা অঞ্চলের পুরাকীর্তি হিসেবে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অমূল্য নিদর্শন।
রোয়াইলবাড়ী দুর্গটি মূলত মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। অনেকে এটিকে **সুলতানী আমলের, আবার অনেকে মনে করেন সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের পুত্র নছরত শাহ বা বারো ভূঞাদের নেতা **ঈশা খাঁ’র শাসনামলে নির্মিত হয়েছে।
দুর্গটির নাম ‘রোয়াইল’ শব্দ থেকে এসেছে, যার বাংলা অর্থ অশ্বারোহী বাহিনীর কেন্দ্র– যা প্রাচীনকালে কৌশলগত ও সামরিক গড় হিসেবে ব্যবহৃত হত।
এটির মধ্য দিয়ে বাংলা সুলতানী ও মোগল রাজধানীর বিভিন্ন সময়ের ইতিহাস প্রবাহিত হয়েছে। এর প্রাচীর, ঘাট, খাল, প্রাচীন মসজিদ ও অন্যান্য ইটকাঠামো প্রমাণ করে এটি শুধুমাত্র প্রতিরক্ষার স্থল নয়, বরং প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
১৯৮০-এর দশকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খননকালে দুর্গটি প্রথম নেতৃত্বে আসে। এর পরবর্তী ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ এবং ২০১৬–১৭ সালে পুনরায় খনন ও গবেষণা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে:
মূল প্রবেশদ্বার বা সিংহদ্বারব হু কক্ষবিশিষ্ট ইমারত
দুটি বড় পুকুর ও প্রবেশ পাড়ি প্রাচীর, বুরুজ ঢিবি বা টাওয়ার সুরঙ্গ পথ টেরাকোটা ও শিলামালাসহ নানাবিধ নিদর্শন
এগুলো প্রমাণ করে দুর্গটি একসময় ছিল একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও সামরিক শক্তির কেন্দ্র।
প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ধারণা করেন এটি প্রায় ৬০০-৭০০ বছর প্রাচীন এবং বেতাই নদীর কূলবর্তী অবস্থান নদীর বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বর্তমানে রোয়াইলবাড়ী দুর্গ ছাদবিহীন ইমারত, ভগ্নাংশ ও মাটির নিচে চাপা পড়া স্থাপত্যের অংশ হিসেবে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি ধ্বংসপ্রাপ্তির পথে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইতিহাসবিদরা বারবার দাবি করেন যে, সরকার ও সংস্কৃতি সংস্থাগুলোর উচিত এই নির্দশনগুলিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা। ইতোমধ্যেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কিছু অংশে সীমিত পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়েছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়।
দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি নজরদারি ও সংরক্ষণ কার্যক্রম অপ্রতুল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো দখল জঞ্জাল ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা পর্যটন সুযোগ থাকে সরল হলেও পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই এই অবস্থা প্রত্নতত্ত্ব ও স্থানীয় ঐতিহ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ দাঁড়িয়েছে।
রোয়াইলবাড়ী দুর্গটি কেন্দুয়া ও নেত্রকোনার পর্যটন সম্ভাবনার অন্যতম আকর্ষণ। নদীর তীরবে সাজানো এই স্থান ঐতিহ্যপ্রেমী ও পর্যটকদের জন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বর্ধিত।
★—দর্শনার্থী সুবিধা
রাস্তা ও যোগাযোগ উন্নয়ন
পর্যটন কেন্দ্রিক পরিষেবা দিয়ে এটিকে একটি অলংকৃত পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয় জাগ্রত হবে বলে অনেকে মনে করেন।
রোয়াইলবাড়ী দুর্গ শুধু এক ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ নয়; এটি বাংলার ইতিহাসের এক অমোচনীয় অধ্যায়। সঠিক পরিকল্পনা ও সংরক্ষণ উদ্যোগ মোতায়েন করা হলে তা শুধু ঐতিহ্য রক্ষায়ই সহায়ক হবে না, বরং পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্তও খুলবে।
সর্বশেষ