সারাদেশ

একক ব্যক্তির শাসন ঠেকাতে গণভোট জরুরি: আলী রীয়াজ

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ | নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
news image

ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং একক ব্যক্তির ইচ্ছায় রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি বন্ধ করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, দেশের মালিক জনগণ—এই সাংবিধানিক ঘোষণার বাস্তব চর্চার অন্যতম মাধ্যম হলো গণভোট।

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচারণা ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন আর দেশ না চলে, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন সংবিধান সংশোধন না হয় সেই লক্ষ্যেই গণভোটের উদ্যোগ। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এই দায়িত্ব শহীদরা আমাদের দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা হঠাৎ করে আসেনি; বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এসেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে গণভোটে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে একক সিদ্ধান্তে সংবিধান সংশোধন হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে এবং এর ফলাফল দেশ দেখেছে। বিগত তিনটি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এসব নির্বাচনের তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন,জনগণের সম্মতিই হচ্ছে গণভোট। রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা তৈরিতে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ কোনো সরকারের একক দলিল নয়; এটি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের সনদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোট রাষ্ট্রীয়ভাবে ইতিবাচকভাবে প্রচার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার, বিরোধী দল ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জুলাই সনদে বলা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাবনায় তিনি জানান, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য উচ্চকক্ষের সমর্থন প্রয়োজন হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের পাশাপাশি উচ্চকক্ষের সমর্থন বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন তিনি।

বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, গণভোটকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ফ্যাসিবাদ নিবারণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণভোট অপরিহার্য, এতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই।

মনির হায়দার বলেন, পছন্দের সরকার ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই গণভোটের লক্ষ্য। রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের জন্য এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, গণভোট কেবল একটি ভোট নয়,এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার একটি সুযোগ। এই সুযোগ কতটা গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, সেটিই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথরেখা।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল হক ভুইয়া এবং ময়মনসিংহ পুলিশ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া।

উক্ত সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার ২৪টি উপজেলার জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ