মতামত
নেত্রকোনার মদন উপজেলার এক সংগ্রামী তরুণের নাম শহিদুল। জন্মের পর থেকেই তার ডান হাত নেই—এই কঠিন বাস্তবতা সঙ্গী করেই বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার মানসিক শক্তিকে কখনোই দুর্বল করতে পারেনি। দারিদ্র্য, অভাব–অনটন, সামাজিক বাধা—সবকিছুকে জয় করে আজ তিনি নিজের ঘামঝরানো পরিশ্রমে অটো রিকশা চালিয়ে পরিবারের পাঁচ সদস্যের মুখে আহার জোগান।
শহিদুলের পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী, দুই ছোট ছেলে এবং বৃদ্ধা মা। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। একদিন ঘরে টাকা না আনতে পারলে পুরো পরিবারই অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। তবুও কোনো অভিযোগ নেই, নেই হতাশা—বরং নিজের দুই হাতের অভাব ভুলে তিনি বেছে নিয়েছেন আত্মসম্মানের পথ।
গত তিন মাস ধরে তিনি অটো রিকশা চালাচ্ছেন। এর আগেও দীর্ঘদিন তিনি পাওয়ার টিলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। ডান হাত না থাকা সত্ত্বেও গাড়ি চালাতে তার কোনো অসুবিধা হয় না—বরং তিনি দক্ষতা ও সাহস দিয়ে সকলকে অবাক করে দেন। একমাত্র কারণ, তিনি কারও কাছে হাত পেতে বাঁচতে চান না। শহিদুলের ভাষায়—
“নিজের রোজগারে খাওয়ার আনন্দের সঙ্গে কোনো তুলনা হয় না।”
সমাজে অনেক মানুষ আছেন যাদের হাত-পা ঠিক আছে, শক্তি আছে, সুযোগ আছে; তবুও তারা দারিদ্র্যের অজুহাতে অন্যের কাছে সাহায্যের হাত বাড়ান। সেখানে শহিদুল এক ব্যতিক্রম উদাহরণ। জীবনযুদ্ধে তিনি শুধু টিকে নেই, লড়ছেনও দৃঢ় মনোবল নিয়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—হাত না থাকার কারণে অন্য কোনো কাজ তাকে দেওয়া হয় না। তাই বাধ্য হয়েই এই পেশা বেছে নিয়েছেন তিনি।
দু'হাতের অভাব থাকা সত্ত্বেও যে মানুষটি নিজের পরিবারকে বাঁচাতে রাস্তায় নামেন, সূর্য ওঠা থেকে রাত নামা পর্যন্ত পরিশ্রম করেন—তিনি সত্যিই অনুপ্রেরণার প্রতীক। শহিদুলের জীবনযুদ্ধ সমাজের সব মানুষের জন্য এক শিক্ষা: ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
সর্বশেষ