ময়মনসিংহ

ডিসি অফিসে দুই বিএনপি নেতার মারামারি, আহত অফিস সহকারী

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ | ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
news image
ডিসির দরজায় বিএনপির দুই নেতার মারামারি, ভাঙচুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে দুই বিএনপি নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয় একটি ফুলের টব এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী জনি (৩০)। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের ভেতরে এমন ঘটনায় জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় জেলা প্রশাসকের কক্ষ থেকে বের হচ্ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক। একই সময়ে ডিসির কক্ষে প্রবেশ করছিলেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন। মুখোমুখি হওয়ার পর দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করতে থাকেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চর-থাপ্পড় ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় হাফেজ আজিজুল হক বারান্দায় থাকা একটি ফুলের টব তুলে তোফাজ্জল হোসেনকে আঘাতের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জেলা প্রশাসকের বডিগার্ড পুলিশ সদস্য মো. জাকির হোসেন এবং অন্যান্য কর্মচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় অফিস সহকারী জনি বাধা দিতে গিয়ে হাতে আঘাত পান।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাফেজ আজিজুল হক ও তোফাজ্জল হোসেন উভয়েই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান আনন্দ পত্রিকাকল বলেন, “হঠাৎ এ ঘটনার সূত্রপাত হওয়ায় আমিসহ উপস্থিত সবাই বিব্রত হয়েছি। সরকারি কার্যালয়ে এ ধরনের আচরণ মোটেও কাম্য নয়। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত নয়।”

এদিকে সরকারি অফিসের ভেতরে দুই রাজনৈতিক নেতার এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় বিব্রত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, জনগণের সেবা নিশ্চিত করার স্থান হিসেবে পরিচিত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শুধু প্রশাসনকেই নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।



সর্বশেষ