সারাদেশ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় সেচের জন্য খনন করা অগভীর নলকূপে হঠাৎ গ্যাসচাপের কারণে ভয়াবহ উদগীরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রায়পুর গ্রামের কৃষক মো. আলমগীর (৪০) তার কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে অগভীর সেচ প্রকল্পের আওতায় একটি বোরিং খনন করেন। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বোরিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। শনিবার সকালে বোরিংয়ে মোটর সেট করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মোটর চালু করা হলে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রচণ্ড গ্যাসচাপের কারণে বোরিংয়ের ভেতর থেকে কর্দমাক্ত পানি ও মাটির সঙ্গে মোটর এবং পাইপ প্রচণ্ড গতিতে বেরিয়ে এসে প্রায় একশ ফুট উচ্চতায় ছিটকে পড়ে। স্থানীয়দের ধারণা, ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ থেকেই এই উদগীরণের সৃষ্টি হয়েছে।
উদগীরণের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বোরিং মুখ দিয়ে কাদা ও পানি ছিটকে পড়তে থাকে। ঘটনাস্থলটি আলমগীরের বসতবাড়ি থেকে মাত্র তিনশ ফুট দূরে হওয়ায় আশপাশের বাড়িঘর ও মানুষজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘর ছেড়ে দূরে সরে যান।
খবর পেয়ে ধর্মপাশা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের ভূগর্ভস্থ গ্যাসচাপজনিত ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় কোনো কার্যকর যন্ত্রপাতি তাদের কাছে নেই। ফলে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ছাড়া সরাসরি কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
এলাকাবাসী জানান, এর আগেও হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এমন গ্যাস উদগীরণের খবর পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো সমাধান বা গবেষণামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বোরিং এলাকা ঘিরে রাখা এবং ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উৎস শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ