ময়মনসিংহ

ধান ছেড়ে সবজিতে ঝুঁকছেন কৃষক, মাঠে নেই কৃষি কর্মকর্তারা

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ | ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
news image

ময়মনসিংহ সদরের চরাঞ্চলে বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র। একসময় যেখানে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধানের সবুজ সমারোহ দেখা যেত, সেখানে এখন চোখে পড়ে শশা, টমেটোসহ নানা সবজির আবাদ। কৃষকদের মতে, ধানের তুলনায় শশা ও সবজি চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এই পরিবর্তনের সময়ে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের তৎপরতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ এ বছর ৩৩ শতাংশ জমিতে টমেটো এবং ৭৫ শতাংশ জমিতে শশা আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় তিনি লাভের মুখ দেখছেন। একই এলাকার কৃষক আব্দুল সাত্তার ৫৬ শতাংশ জমিতে শশা চাষ করে ভালো লাভ করেছেন। রাজ মামুদ এক একর জমিতে শশা আবাদ করে লাভবান হলেও কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি বলে জানান। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি শশা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, ধানের তুলনায় শশা ও সবজি চাষে খরচ কিছুটা বেশি হলেও বাজারদর ভালো থাকায় লাভের পরিমাণও বেশি। এ কারণে অনেক কৃষক ধান ছেড়ে শশা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ঝুঁকছেন।

তবে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, “আমরা বেশি লেখাপড়া জানি না। বাজারের দোকানদারদের কথা শুনেই চাষাবাদ করি। কোনো কৃষি কর্মকর্তা আমাদের জমিতে আসেন না, পরামর্শও দেন না।”

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চরাঞ্চলের একাধিক ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তাদের সরেজমিন উপস্থিতি খুবই কম। আধুনিক চাষপদ্ধতি, উন্নত জাতের বীজ, রোগবালাই দমন কিংবা বাজারসংযোগের বিষয়ে অধিকাংশ কৃষকই স্থানীয় ব্যবসায়ী বা অভিজ্ঞ চাষিদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সবজি চাষ লাভজনক হলেও এতে ঝুঁকি বেশি। হঠাৎ রোগবালাই, আবহাওয়ার পরিবর্তন কিংবা বাজারদর কমে গেলে কৃষকদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে। নিয়মিত তদারকি ও প্রশিক্ষণের অভাবে উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নাও হতে পারে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, আধুনিক পদ্ধতি, উন্নত জাতের বীজ ও রোগবালাই প্রতিরোধে সঠিক পরামর্শ পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। এজন্য মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শন ও কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন।

গত বছর ভুট্টা চাষ করে লাভবান হওয়া কৃষক মো. কালাম মিয়াও একই অভিযোগ করে বলেন, “আজও কৃষি অফিসারের দেখা পেলাম না।” অপরদিকে কৃষক জাহিদ জানান, তার শশার ক্ষেতে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিয়েছে। দোকানদারের পরামর্শে বিভিন্ন সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেও তেমন ফল পাচ্ছেন না। সরকারি কৃষি কর্মকর্তা এসে পরামর্শ দিলে উপকার হতো বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃষকদের মতে, চরাঞ্চলে ধানের পরিবর্তে অধিক লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। তবে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের তদারকি না থাকায় তারা নানা ঝুঁকি নিয়ে চাষাবাদ করছেন।

ধানের মাঠ থেকে শশার ক্ষেতে বদলে যাওয়া এই কৃষি বাস্তবতা এখন ময়মনসিংহের চরাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে টেকসই করতে হলে কৃষি বিভাগের দায়িত্বশীল তদারকি ও কার্যকর সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন 

সর্বশেষ