ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সফল অভিযানে বহুল আলোচিত ভালুকা মডেল থানাধীন একটি দস্যুতা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। অভিযানে ঘটনার মূল হোতা গ্রেফতারসহ লুণ্ঠিত ৪২৪টি লিড এসিড ব্যাটারি, দস্যুতায় ব্যবহৃত একটি পিকআপ গাড়ি এবং ব্যাটারি বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ১২ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জিআইজি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড থেকে মেসার্স এম এ ভূইয়া ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে একটি খোলা পিকআপ গাড়িতে ৪৬০টি লিড এসিড ব্যাটারি (মূল্য আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা) এবং ফ্রি হিসেবে ৬৩টি টি-শার্ট ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর বাজারের দুটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। চালান অনুযায়ী মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডেলিভারিম্যান মো. রুবেল হাওলাদার (২৯)।
পথিমধ্যে একই দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ভালুকা থানাধীন হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পুষ্প কানন ফিলিং অ্যান্ড এলপিজি স্টেশনের সামনে পৌঁছালে কথিত চালক লোকমান ওরফে সাগর ওরফে মিনহাজ (২৮) তার দুই সহযোগীকে নিয়ে হঠাৎ গাড়ি থামান। এ সময় তারা ডেলিভারিম্যান রুবেল হাওলাদারকে মারধর করে, গলায় চাকু ধরে হত্যার হুমকি দেয় এবং গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর পিকআপসহ সব মালামাল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দস্যুরা।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন এর নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। ধারাবাহিক অভিযানে গত ২৯ জানুয়ারি রাতে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে মূল আসামি লোকমান ওরফে সাগর ওরফে মিনহাজকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে অপর আসামি মোহাম্মদ আলী (৩৮) গ্রেফতার হন।
পরবর্তীতে আসামিদের দেখানো মতে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে দস্যুতায় ব্যবহৃত পিকআপ গাড়ি এবং গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এলাকায় একটি বাসা থেকে লুণ্ঠিত ৪২৪টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ব্যাটারির আনুমানিক বাজারমূল্য ২৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া ব্যাটারি বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ডেলিভারি ম্যানেজার মো. রাসেল সরকারের এজাহারের ভিত্তিতে ভালুকা মডেল থানায় মামলা নম্বর-৩৯ দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মূল আসামি লোকমানের বিরুদ্ধে পূর্বে ৯টি মামলা রয়েছে।
ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ