সারাদেশ

বৃদ্ধ মা অন্ধ ছেলের কষ্টের গল্প, মানুষের ভালোবাসায় গড়ে উঠছে নিরাপদ আশ্রয়

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২১ অপরাহ্ন
news image

অন্ধ হাফেজ আমির হামজার জন্য আশার ঘর প্রয়োজন সাহায্যে'র। মানবতা এখনও বেঁচে আছে এ কথার জীবন্ত প্রমাণ অন্ধ হাফেজ আমির হামজার জীবনের এই গল্প।

ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ বাজারের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ আমির হামজা। তাঁর পিতা মৃত চানু মিয়া। সংসারের হাল ধরার মতো কেউ ছিল না। বড় ভাই ঘর-বাড়ি বিক্রি করে ঢাকায় চলে গেলেও বৃদ্ধ মা ও জন্মাঅন্ধ ছেলে রয়ে যান গ্রামেই—চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে।

শীতের কনকনে রাতে একটি ছোট, জীর্ণ ছাউনি—সেটাই ছিল তাদের একমাত্র আশ্রয়। বাতাস ঢুকত চারদিক থেকে, শীত ভেদ করত শরীর। বৃদ্ধ মা আর অন্ধ ছেলে দু’জনের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এমন বাস্তবতায় একটু নিরাপদ ঘর মানে শুধু ইট-টিন নয়, মানে বেঁচে থাকার ভরসা।
এই মানবিক বিপর্যয়ের খবর হঠাৎই চোখে পড়ে ইয়াছিন আহমেদ-এর। দেরি না করে তিনি ফোন করেন তাঁর আত্মীয় আব্দুল্লাহ মামু (আব্দুল্লাহ মুন্সি) কে। কথা একটাই “আমির হামজার জন্য কিছু করা দরকার।” এরপর তিনি যোগাযোগ করেন আমাদের সাথেও—একটি ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায়ই যে এমন কাজ সম্ভব—এই বিশ্বাস থেকেই শুরু হয় পথচলা।

আল্লাহর উপর ভরসা রেখে এগিয়ে আসেন আরও কিছু মানবিক মানুষ। ইয়াছিন আহমেদ ও আব্দুল্লাহ মুন্সি-র নিরলস প্রচেষ্টায় আজ ঘর নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান। যে জায়গায় ছিল ছেঁড়া ছাউনি, আজ সেখানে উঠছে টিনের ছাউনি দেওয়া নিরাপদ ঘর। প্রতিটি বাঁশ, প্রতিটি খুঁটি যেন সাক্ষ্য দিচ্ছে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ালে অসম্ভবও সম্ভব হয়।
এ উদ্যোগে পাশে আছেন আব্দুল্লাহ হাডওয়ারসহ আরও শুভানুধ্যায়ী। সবার সম্মিলিত শ্রম, দোয়া আর ভালোবাসায় কাজ এগিয়ে চলেছে। তবে কাজ সম্পূর্ণ করতে এখনও সহযোগিতা প্রয়োজন। সামান্য অনুদানও এখানে হয়ে উঠতে পারে কারও জীবনের বড় আশ্রয়।


👉 সহযোগিতার ঠিকানা:
ইয়াছিন আহমেদ — বিকাশ/নগদ: 01623-858159
আব্দুল্লাহ হাডওয়ার — 01961-329021


আসুন, আমরা সবাই মিলে এই অন্ধ হাফেজ ও তাঁর বৃদ্ধ মায়ের জন্য নিরাপদ একটি ছাদের স্বপ্ন পূরণ করি। আপনার সামান্য সাহায্য, একটি দোয়া—হয়তো শীতের রাতে তাদের চোখের জল থামাবে, হৃদয়ে ফিরিয়ে দেবে স্বস্তি।
মানবতার জয় হোক।

সর্বশেষ