সারাদেশ

বিয়ের ভোজে খাবার খেয়ে অসুস্থ বরসহ ২০ জন, আতঙ্কে দুই উপজেলা

রানা খান, স্টাফ রিপোর্টার নেত্রকোনা। ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
news image

নেত্রকোনায় বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই আতঙ্কে রূপ নেয়, যখন ভোজে অংশ নেওয়ার পর বরসহ অন্তত ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার (৬ এপ্রিল) আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে রোববার জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মানসা গ্রামে কনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আটপাড়া উপজেলার শুনই ইউনিয়নের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে মোহনগঞ্জ উপজেলার মানসা গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল রোববার। প্রথা অনুযায়ী বর মনিরুল ইসলাম আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বরযাত্রী হিসেবে কনের বাড়িতে যান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর ও বরযাত্রীরা ভোজে অংশ নেন।

খাবার শেষে নিজ এলাকায় ফেরার পথে এবং বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বরসহ প্রায় ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এতে মুহূর্তেই আনন্দঘন পরিবেশ আতঙ্কে পরিণত হয়।

অবস্থা গুরুতর হলে স্বজনরা দ্রুত তাদের আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, আর কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শুনই গ্রামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, “বিয়ের দাওয়াত খেয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবারই বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

এ ঘটনায় বরপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কনের বাড়ির খাবারে কোনো ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে অথবা খাবারটি অস্বাস্থ্যকর ছিল। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি জানাজানি হলে আটপাড়া ও মোহনগঞ্জ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিয়ের মতো বড় আয়োজনে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার পাল বলেন, “একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে কয়েকজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে এটি খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে মনে হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

সর্বশেষ