সারাদেশ
ঈদ সামনে রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা ও বোনাস না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকার একটি কারখানার শ্রমিকরা। দুই মাসের বকেয়া বেতন ও প্রতিশ্রুত ঈদ বোনাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে শত শত যানবাহন, চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভালুকা উপজেলার কাঁঠালি এলাকায় অবস্থিত শেফার্ড জিন্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তেই ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল হয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী, ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানায় কর্মরত শত শত শ্রমিকের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এর পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে বেতন-বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা না রাখায় ক্ষোভ চরমে পৌঁছায় শ্রমিকদের। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
কারখানার শ্রমিক নাজমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। অথচ আমাদের দুই মাসের বেতন দেয়নি। ঈদ বোনাসও দিচ্ছে না। পরিবার নিয়ে কীভাবে ঈদ করবো? সন্তানদের নতুন কাপড় কিনে দেওয়ার সামর্থ্যও থাকবে না। তাই বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি।”
অন্যদিকে মহাসড়কে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা যাত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, “দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে। যেসব কারখানা শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন দিতে পারে না, সেসব কারখানা চালানোর কোনো অধিকার নেই।”
ঘটনার বিষয়ে শেফার্ড জিন্স লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি কথা বলতে রাজি হননি।
তবে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে এমন অচলাবস্থা শুধু একটি কারখানার সমস্যা নয়—এটি দেশের শ্রম ব্যবস্থাপনা ও শিল্পখাতের দায়বদ্ধতার প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। শ্রমিকদের ঘামঝরা শ্রমে দাঁড়িয়ে থাকা শিল্পকারখানাগুলো যদি তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো না দেয়, তবে ক্ষোভের বিস্ফোরণ যে রাস্তায় গড়াবে—তা আর অস্বাভাবিক কিছু নয়।
সর্বশেষ