সারাদেশ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভূমি প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল কালামকে ঘিরে আবারও নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রায় তিন দশকের চাকরি জীবনে একই উপজেলায় দায়িত্ব পালন, দীর্ঘ সময় একই ইউনিয়নে অবস্থান এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সব মিলিয়ে প্রশ্নের মুখে তার কর্মকাণ্ড।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে আবুল কালাম প্রায় ৩০ বছর ধরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলাতেই কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে চার দফায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন আকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী বদলির কথা থাকলেও দীর্ঘদিন একই উপজেলায় এবং বিশেষ করে আকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অবস্থান করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, আকুয়া ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন। তার শাশুড়ির নামে আকুয়া মৌজায় নির্মাণ করা হয়েছে ছয়তলা একটি ভবন। এছাড়া নিজ নামে ও বেনামে জমি, ফ্ল্যাট, স্বর্ণালংকারসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির নামজারি, খারিজ, মামলা সংক্রান্ত তদবিরসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। অনেকে বাধ্য হয়ে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সেবা নিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
বর্তমানে তিনি চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকলেও পুনরায় আকুয়া ইউনিয়নে ফেরার জন্য তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক মহলের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চলছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, “আকুয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন থাকার কারণে সেখানে তার একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি হয়েছে। সেই প্রভাব কাজে লাগাতেই তিনি আবারও সেখানে ফিরতে চাইছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, কোনো ধরনের তদবির বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “যোগ্যতা ও নিয়ম অনুযায়ীই পদায়ন হবে। অনৈতিক কোনো প্রভাব বা সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয়।
সচেতন মহলের দাবি, আবুল কালামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
দীর্ঘ ৩০ বছর একই উপজেলায় একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন কোন প্রভাব বা ক্ষমতার বলে—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
সর্বশেষ